বাংলাদেশ–ভারত টানাপোড়েনের মধ্যে পররাষ্ট্রসচিবদের বৈঠক ঢাকায়
![]() |
| বাংলাদেশ–ভারত টানাপোড়েনের মধ্যে পররাষ্ট্রসচিবদের বৈঠক ঢাকায় |
বাংলাদেশ–ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের টানাপোড়েন ও উত্তেজনার মধ্যে আগামী সপ্তাহে দুই দেশের পূর্বনির্ধারিত পররাষ্ট্রসচিবদের বৈঠক ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে চলেছে।
ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক সূত্রগুলো গতকাল বুধবার প্রথম আলোকে জানিয়েছে, পররাষ্ট্রসচিব মো. জসীম উদ্দিনের সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রির বৈঠকটি ৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর আগে বৈঠকটি ১০ ডিসেম্বর হওয়ার কথা ছিল।
গতকাল বিকেলে ঢাকা-দিল্লি পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠক নিয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, বৈঠকটি এক দিন এগিয়ে আসতে পারে। তা না হলে ১০ ডিসেম্বর। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই ভালো সম্পর্ক। তবে সেটা রেসিপ্রোক্যাল (পারস্পরিক) হতে হবে। সেই লক্ষ্যে কাজ করতে হবে।
সর্বশেষ সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ তুলে আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে নজিরবিহীন হামলা চালিয়েছে হিন্দুত্ববাদী কয়েকটি সংগঠন। এ ছাড়া কলকাতা ও মুম্বাইয়ের বাংলাদেশ মিশনের কাছেও বিক্ষোভ হয়েছে। বাংলাদেশ মিশনে হামলার প্রতিবাদে ইতিমধ্যে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনকে তলব করে নিন্দা জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ওই মিশনে ভিসা সেবাসহ কনস্যুলার কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বড় রকমের টানাপোড়েনের মধ্যে পড়েছে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক। সারা বিশ্ব শেখ হাসিনার কর্তৃত্ববাদী শাসনের অনিবার্য পরিণতিকে সাদরে স্বাগত জানিয়েছে। কিন্তু পরিবর্তনের চার মাস পরও পাশের দেশ তা মেনে নিতে পারেনি; বরং ভারত ঘুরেফিরে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ সামনে আনায় তিক্ততা বেড়ে চলেছে।
সর্বশেষ সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ তুলে আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে নজিরবিহীন হামলা চালিয়েছে হিন্দুত্ববাদী কয়েকটি সংগঠন। এ ছাড়া কলকাতা ও মুম্বাইয়ের বাংলাদেশ মিশনের কাছেও বিক্ষোভ হয়েছে। বাংলাদেশ মিশনে হামলার প্রতিবাদে ইতিমধ্যে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনকে তলব করে নিন্দা জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ওই মিশনে ভিসা সেবাসহ কনস্যুলার কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। হামলার প্রতিবাদে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে বিক্ষোভ চলছে। সব মিলিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী এই দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে একধরনের উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
সরকারের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, দুই দেশের মধ্যে গত আগস্ট থেকে যে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে, তা শুধু সাম্প্রতিক কালেই নয়, স্বাধীনতার পর থেকে বিরলই বলা চলে। পাঁচ বছরে এই প্রথম ঢাকায় ভারতের কোনো হাইকমিশনারকে তলবের ঘটনা ঘটল। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি ও বক্তব্যের পাল্টা প্রতিবাদও বাংলাদেশ এই সময়কালে বেশ কয়েকবার পাঠিয়েছে। এরই মধ্যে দুই দেশের পররাষ্ট্রসচিবদের বৈঠক হতে যাচ্ছে।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি ৯ ডিসেম্বর সকালে ভারতের বিমানবাহিনীর বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকায় আসবেন। এরপর সকালে তিনি পররাষ্ট্রসচিব মো. জসীম উদ্দিনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করবেন। মধ্যাহ্নভোজ শেষে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন ভারতের পররাষ্ট্রসচিব। সবশেষে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। ওই দিন বিকেলে দিল্লি ফিরে যাবেন বিক্রম মিশ্রি।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ঢাকায় এটিই হবে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রথম বৈঠক। অবশ্য গত সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের আলোচনা হয়েছিল। ওই সময় তৌহিদ হোসেন দুই দেশের সম্পর্কের স্বার্থে পররাষ্ট্রসচিবদের বৈঠক আয়োজনের প্রস্তাব দেন।
জানতে চাইলে চেক
প্রজাতন্ত্রের রাজধানী প্রাগ থেকে পররাষ্ট্রসচিব মো. জসীম উদ্দিন প্রথম
আলোকে বলেন, দুই দেশের পররাষ্ট্রসচিবদের বৈঠকটি স্বাভাবিক কার্যক্রমের অংশ
হলেও এবার ইতিহাসের জটিল এক সন্ধিক্ষণে তা হতে যাচ্ছে। ফলে অন্যবারের
তুলনায় ঢাকায় পরিকল্পিত বৈঠকটির নিঃসন্দেহে বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। বৈঠকটি
দুই দেশের মধ্যে চলমান অস্বস্তি দূর করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
রাখতে পারে। এ বৈঠকের ধারাবাহিকতায় দুই দেশের বিভিন্ন খাতের অন্য
আলোচনাগুলোও শুরুর পরিবেশ তৈরি হবে।

0 মন্তব্যসমূহ