Header Ads Widget

বাবা বলেছিলেন, স্বাধীন আমরা হবই

 বাবা বলেছিলেন, স্বাধীন আমরা হবই

বাবা বলেছিলেন, স্বাধীন আমরা হবই

 

মহান মুক্তিযুদ্ধে আমার বাবা যখন শহীদ হন, তখন আমার বয়স দুই বছর। বাবার স্মৃতি বা মুক্তিযুদ্ধের কোনো স্মৃতি আমার নেই। বাবার কথা শুনেছি আমার মা, আত্মীয়স্বজন, বাবার ছাত্র ও অন্যান্য লোকের মুখে। বাবাকে জেনেছি তাঁর লেখা বই ও অপ্রকাশিত পাণ্ডুলিপি পড়ে।  আমার বাবা প্রিয় সাধন সরকার ছিলেন একজন তরুণ কবি, নাট্যকার, শিক্ষক ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক। মাত্র ২৮ বছর বয়সে তিনি শহীদ হন।


আমাদের বাড়ি ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার পয়ারী গ্রামে। বাবার জন্ম হয়েছিল বেশ অবস্থাপন্ন পরিবারে। ছোটবেলা থেকেই কবিতা ও নাটক লিখতেন। নিজের লেখা নাটক মঞ্চস্থ করতেন, অভিনয়ও করতেন। ১৯৬৩ সালে তিনি আনন্দ মোহন কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি নিয়ে বিএড প্রশিক্ষণ নেন। এরপর আমাদের গ্রামের পয়ারী গোকুল চন্দ্র উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন।


অসহযোগ আন্দোলনের সময় যখন দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অফিস-আদালত বন্ধ হলো, তখন বাবা এলাকার মানুষদের উজ্জীবিত করতে শুরু করেন। ছাত্র ও স্থানীয় যুবকদের সংগ্রামী চেতনায় অনুপ্রাণিত করেন। তাঁদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে এই প্রশিক্ষণ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে বাবা এলাকার লোকজন নিয়ে নিজ বাড়িতে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উঠিয়ে দৃঢ়ভাবে বলেছিলেন, ‘স্বাধীন আমরা হবই। এমন কোনো শক্তি নেই, যা আমাদের ঠেকাতে পারে। মুক্তিকামী জনতা এক হয়ে তাদের শক্তিকে মহাশক্তিতে পরিণত করছে। জন্ম হচ্ছে স্বাধীনতার। আঘাত আসবেই। অনেক রক্ত ঝরবে। আমরা না থাকলেও আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক হবে।’

 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ