![]() | |
| ভিয়েনা কনভেনশন লঙ্ঘন করে গত সোমবার আগরতলায় বাংলাদেশের উপহাইকমিশনে হামলা চালায় কয়েকটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠনছবি: সংগৃহীত |
‘অধীনতা’ আর ‘মিত্রতা’ একসঙ্গে যায় না। সমান মর্যাদার দুজনের মধ্যে বন্ধুত্ব হয়, মিত্রতা হয়; ‘অধীনতামূলক মিত্রতা’ হয় না।
তবে এই ‘অধীনতামূলক মিত্রতা’র নজির নেই, এমন নয়। এর ঐতিহাসিক নজির আছে।
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হয়ে ১৭৯৮ সালে ভারতবর্ষের বড় লাট লর্ড ওয়েলেসলি ‘অধীনতামূলক মিত্রতা’ নামের নীতিটি আমদানি করেছিলেন।
এই নীতির আলোকে কোম্পানির সঙ্গে এই অঞ্চলের নবাব ও নিজামরা চুক্তি করে ইংরেজদের ‘মিত্র’ হয়েছিলেন। সেই চুক্তি ছিল কার্যত গোলাম ও মনিবের চুক্তি।
সেই চুক্তিতে বলা ছিল, ব্রিটিশরা ‘মিত্রদের’ (নবাব ও নিজামদের) রাজ্যগুলোর ভেতরকার বিদ্রোহ আর বাইরের আক্রমণ থেকে সুরক্ষা দেবে।
বিনিময়ে মিত্ররা তাঁদের ভূখণ্ডে ব্রিটিশ সেনাদের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সব ধরনের সংস্থান সরবরাহ করবেন।
চুক্তিতে বলা ছিল, মিত্ররা নিজেদের মনমতো কিছু করতে পারবেন না। প্রশাসন চালানোর বিষয়ে বা যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়ে তাঁদের ব্রিটিশরাজের পরামর্শ নিতে হবে, তাদের গাইডলাইন মেনে চলতে হবে।
অন্যান্য শাসক বা অন্য কোনো বিদেশি শক্তির সঙ্গে চুক্তি করতে হলে মিত্রদের ব্রিটিশদের অনুমতি নিতে হবে।
চুক্তিতে লেখা ছিল, ব্রিটিশরা মিত্রদের ভূখণ্ডের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে না।
তবে যেটা লেখা ছিল না, তা হলো সরাসরি হস্তক্ষেপ না করলেও ব্রিটিশদের স্বার্থের সঙ্গে সংঘাত হয়, এমন কিছু করলেই ব্রিটিশরাজ তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

0 মন্তব্যসমূহ